Thursday, 28 July 2016

Kongmics


কংমিকস


== এই ব্লগে প্রদর্শিত অপরের রচনাংশ, স্থিরচিত্র বা অলংকরণের কপিরাইট আমাদের নয় ==
পোস্টের বক্তব্য স্পষ্টতর করতে এগুলি সাজানো হচ্ছে কোনও ব্যবসায়িক স্বার্থে নয়
 
From the 'Blogus' blog.
BlOGUS ব্লগে কংমিকস

From the 'Blogus' Blog
ছবির নাম ‘কিং কং’ (১৯৩৩)




চিত্রে কাহিনি নয় ।
কাহিনিচিত্র নির্মাণের সচিত্র নেপথ্য কাহিনি ।
কমিকস ? বিন্যাস তো তেমনটাই ।
From the 'Blogus' Blog.
কিং কং কোথা হইতে আসিল ?’,
ননীগোপাল চক্রবর্তী
, ১৯৪০

কিং কং কোথা হইতে আসিল ?’ নিবন্ধের যেন সবকিছুই অভিনব ।



ধরুন বিষয়  



ছবির নাম কিং কং’ (১৯৩৩)


From the 'Blogus' blog.
হেমেন্দ্র কুমার রায় রচিত
কিং কঙ’ ।

ইতিপূর্বে প্রকাশিত হয়ে গেছে এর গল্পাংশের ঝকঝকে বাংলা রূপান্তর (১৯৩৭ ?) ।
হেমেন্দ্র কুমার রায়-এর স্বাধীন কলমে
কং রাজার খুদে চক্ষু দিয়ে নিউ ইয়র্ক নয়, খোদ কলকাতা শহরকেই দেখেছেন পাঠক

ক্লাসিক ছায়াচিত্রের এমন কিশোরপাঠ্য উপন্যাসরূপ দেওয়ার প্রয়াস অবশ্যই ছিল অভিনব ।
কিন্তু বায়স্কোপের স্পেশাল এফেক্টস ?

তা নিয়েও যে স্কুল পড়ুয়াদের নিঃসীম কৌতূহল থাকতে পারে, তিন বা চার-এর দশকে এমন ভাবনা বুঝি অভিনবতর 



পথ দেখালেন সুকুমার রায়-এর মেজো ভাই সুবিনয় রায় (চৌধুরী) ।

বছরখানেক আগে মুক্তি পেয়েছে কিং কং

পৃথিবীর সেই ‘অষ্টম আশ্চর্য’ কীভাবে অমন গর্জন করল ? থপ থপ পায়ে হেঁটে-চলে বেড়ালো ?

সহজ ভাষায় তারই ব্যাখ্যা দিলেন সুবিনয়
রামধনু’-র পাতায় তাঁর ‘অতিকায়ের কাণ্ড’ (শ্রাবণ ১৩৪১) ভোলবার নয় । 


From the 'Blogus' blog.

সুবিনয় রায় রচিত ‘অতিকায়ের কাণ্ড’,
রামধনু’, শ্রাবণ ১৩৪১ ।


From the 'Blogus' blog.
সন্দীপ রায়-এর কং,
সন্দেশ’, ভাদ্র – আশ্বিন ১৩৮৪ ।

চার দশক পেরিয়ে একই প্রসঙ্গে কংশীর্ষক নিবন্ধ লেখেন রায়-বংশেরই আর এক তরুণ । 
সন্দেশ’ পত্রিকায় সন্দীপ রায়

তবে সে তো ১৯৭৭

ততদিনে কিং কংছবির পয়লা রিমেক তৈরি হয়ে গেছে ।

সাধারণভাবে চলচ্চিত্র তৈরির নানা রহস্যই জেনে গেছেন দর্শক । ছোটোরাও ।



 


From the 'Blogus' blog.
ছায়াছবির ভয়ঙ্কর
ক্ষিতীন্দ্রনারায়ণ ভট্টাচার্য  (১৯৫২)
তারও আগে হরর চিত্রের রূপসজ্জা ও কিছু টেকনিকাল কায়দা নিয়ে দুর্দান্ত এক লেখা বেরয়  
দেব সাহিত্য কুটীর প্রকাশিত পরশমণিবার্ষিকীতে ‘ছায়াছবির ভয়ঙ্কর(১৯৫২)  
লেখক ক্ষিতীন্দ্রনারায়ণ ভট্টাচার্য
কিং কংছিল তার একটা বড় অংশ জুড়ে ।







এসব তো অনেক পরের ঘটনা ।

কিন্তু ১৯৪০-এ ?


ফিল্ম নির্মাণের খুঁটিনাটি সম্পর্কে গালগল্পহীন সিরিয়াস আলোচনা তখনও সাধারণ বড়দের পত্রিকাতেই বিরল

কাজেই সুবিনয় রায়-এর ঐ চমৎকার লেখাটি বাদ দিলে, এ-বিষয়ে কিশোর-উপযোগী রচনাও প্রায় নেই ।


এই সময় বার্ষিক শিশু-সাথী’-তে সাহিত্যিক ননীগোপাল চক্রবর্তী লিখলেন কিং কং কোথা হইতে আসিল ?

১৩৪৭ সনের সেই নিবন্ধ বিশেষত উপস্থাপনা -র অভিনবত্বে আলাদা হয়ে গেল ।
কং’-কেন্দ্রিক পূর্বের ও পরের যাবতীয় লেখার থেকে ।



কিং কং প্রকৃতপক্ষে জাম্বুবান-এর জীবনী । ছবির ভাষা সংস্কৃত ।

শিরোনামে অনুস্বর-আধিক্য ও পোস্টারে নায়কের প্রতিকৃতি দেখে এমনটাই অনুমান করেছিলেন হর্ষবর্ধন

(‘কলকাতার হালচাল’, দ্বিতীয় ধাক্কা, শিবরাম চক্রবর্তী, ‘রামধনু’, মাঘ ১৩৪১)



এতটা না হলেও হল-ফেরত কোনো কোনো বঙ্গজ অনুমান করেছিলেন, কং সত্যিই একটা শিম্পাঞ্জি

অথবা হাতে আঁকা ছবি

শুধু কথার মাধ্যমে এহেন দর্শকদের সিনেমা তথা ক্যামেরার জটিল যান্ত্রিক কৃতকৌশল বোঝান যেত ?
উপরন্তু পাঠক এক্ষেত্রে ফিল্ম-অনভিজ্ঞ কচিকাঁচারা ।
উপস্থাপনা হতে হবে সরল । কিন্তু চিত্তাকর্ষক ।

রচনায় শব্দ থাক । থাকবেই ।
সঙ্গে কিছু ছবি ।
কিন্তু কী ছবি ? স্রেফ প্রাসঙ্গিক কটা ফিল্ম স্টিল ?

নিবন্ধকার ননীগোপাল চক্রবর্তী বেছে নেন এক অনন্য পদ্ধতি ।
কমিকস-এর ভাষা ।
যা উঁচা-নীচা ছোটো-বড় সমান বোঝে

বাক্সে বাক্সে সাজানো হল যন্ত্র-জাদুর রহস্য ফাঁস-করা ইলাস্ট্রেশন
সঙ্গে ক্যাপশন
ফল ? দেখে নিন ।
ব্যাক-প্রজেকশন’ বা ‘স্টপ মোশন’ প্রয়োগকৌশল কেমন অবলীলায় বোঝানো গেছে ।
টেকনিকাল শব্দের গজাল ছাড়াই

ননীগোপাল স্বয়ং জানিয়েছেন,
“ছবিখানি বাহির হইবার পরেই আমেরিকার ‘Modern Mechanix and Inventions নামক পত্রিকায় ঐ ছবিখানি তোলার সমস্ত গোপন রহস্য প্রকাশিত হয় ।”

ঠিক । সেই লেখার নাম ‘Latest Wonder Movie is Technical Marvel’ (এপ্রিল ১৯৩৩)
তার উপস্থাপনাতেও আছে অনুরূপ সচিত্র কায়দা ।

From the Blogus blog.
Modern Mechanix and Inventions’, April 1933.

From the Blogus blog.
Latest Wonder Movie is Technical Marvel’, Modern Mechanix and Inventions’, April 1933.


কিন্তু ‘কিং কং কোথা হইতে আসিল ?’-তে সেটির বিন্যাস একেবারেই অনুসৃত হয়নি ।
সেখানে সম্পূর্ণ স্বতন্ত্র একসেট অলংকরণ । সাজানোর স্বকীয় স্টাইল ।


বার্ষিক শিশু-সাথী’ ১৩৪৭ থেকে পুনরাবিষ্কৃত সম্পূর্ণ সচিত্র লেখাটাই ধরা রইল BlOGUS-এর বন্ধুদের জন্য ।

আমরা ইন্টারনেটে সংরক্ষিত সংস্করণের উপর নির্ভরশীল ।
তাই চিত্রগুচ্ছের মানের জন্য ক্ষমা চেয়ে নিলাম ।


From the Blogus blog.
From the Blogus blog.
From the Blogus blog.
From the Blogus blog.
From the Blogus blog.From the Blogus blog.
From the Blogus Blog.